বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্ববাজির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় ও আমদানি খরচ— সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার। যারা প্রবাসে থাকেন কিংবা দেশে এসে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন করেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরি।
আজ ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (শনিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কিছু ব্যাংক ও মানি চেঞ্জার থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কোটি প্রবাসী প্রতি মাসে হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠান। এই অর্থের সঠিক বিনিময় হার নিশ্চিত করলে প্রবাসীরা যেমন উপকৃত হন, তেমনি দেশীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও আন্তর্জাতিক লেনদেনে সঠিক মূল্য পেয়ে থাকেন।
এছাড়া শিক্ষার্থী, চিকিৎসা পর্যটক ও পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্যও দিনপঞ্জির বিনিময় হার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
নিচের সারণিতে ক্রয় বলতে ব্যাংক যখন আপনার কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা কিনবে, তখন আপনাকে যে টাকা দেবে; আর বিক্রয় বলতে ব্যাংক যখন আপনাকে বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করবে, তখন আপনাকে যে টাকা দিতে হবে। দয়া করে মনে রাখবেন, এই হার ব্যাংকভেদে সামান্য কম-বেশি হতে পারে এবং দিনের মাঝেও পরিবর্তন সম্ভব।
| মুদ্রা (Currency) | ক্রয় মূল্য (BDT) | বিক্রয় মূল্য (BDT) |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র ডলার (USD) | ১২২.৭০ টাকা | ১২২.৭৫ টাকা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) | ১৬৫.১৯ টাকা | ১৬৫.২৯ টাকা |
| ইউরো (EUR) | ১৪৩.৮৫ টাকা | ১৪৩.৯৭ টাকা |
| জাপানি ইয়েন (JPY) | ০.৭৭ টাকা | ০.৭৬৭ টাকা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) | ৮৬.৬৬ টাকা | ৮৬.৭১ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) | ৯৬.৩১ টাকা | ৯৬.৪০ টাকা |
| কানাডিয়ান ডলার (CAD) | ৮৮.৬৬ টাকা | ৮৮.৭০ টাকা |
| ভারতীয় রুপি (INR) | ১.৩১ টাকা | ১.৩১ টাকা |
| সৌদি রিয়াল (SAR) | ৩২.৭৩ টাকা | ৩২.৫০ টাকা |
সতর্কীকরণ: সৌদি রিয়ালের বিক্রয় মূল্য (৩২.৫০) ক্রয় মূল্য (৩২.৭৩)-এর তুলনায় কম দেখানো হয়েছে, যা সাধারণত অস্বাভাবিক। বাস্তব বাজারে বিক্রয় মূল্য ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি হয়। এটি হয়ত টাইপজনিত ত্রুটি। অনুগ্রহ করে লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ রেট যাচাই করে নিন।
যদি ডলারের মূল্য বাড়ে, তাহলে প্রবাসীরা কম ডলার পাঠিয়ে বেশি টাকা পাবেন — এটি রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য ভালো।
যদি ডলারের মূল্য কমে, তাহলে বিদেশে পণ্য আমদানি (যেমন: গম, ভোজ্য তেল, যন্ত্রাংশ) সস্তা হয় — যা দেশীয় ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক।
বর্তমানে ডলারের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী, যা আমদানি ব্যয় বাড়ালেও প্রবাসী আয়কে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
লেনদেনের আগে সর্বশেষ হারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য মানি এক্সচেঞ্জের অফিসিয়াল পৃষ্ঠা দেখুন।
বড় অঙ্কের লেনদেন করলে একাধিক ব্যাংকের রেট তুলনা করুন।
রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক বা বৈধ মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠান, যাতে সর্বোচ্চ রেট নিশ্চিত হয়।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় স্থিতিশীল। ইউরো ও পাউন্ডের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ সঠিক সময়ে সঠিক হারে দেশে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে নিয়মিত এই তথ্য পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।