জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম 2026 ( আপডেট তথ্য )
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম জানলে খুব সহজেই নিরাপদ ও সরকারি ব্যাংকিং সেবা নেওয়া যায়। জনতা ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ১৯৭২ সাল থেকে এই ব্যাংক সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা দিয়ে আসছে। অনেকেই প্রথমবার ব্যাংকে হিসাব খুলতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন কোথায় যাবেন, কী লাগবে, কত টাকা জমা দিতে হবে।
জেনে রাখুনঃ জনতা ব্যাংক ডিপিএস চার্ট
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম শুরু হয় নিকটস্থ শাখায় যাওয়ার মাধ্যমে। বর্তমানে অনলাইনে সম্পূর্ণ একাউন্ট খোলার সুবিধা নেই, তাই শাখায় উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রথমে অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ফরমে আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পেশা, আয়ের উৎস এবং নমিনি তথ্য সঠিকভাবে লিখতে হবে।
ধাপে ধাপে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া
- নিকটস্থ জনতা ব্যাংক শাখায় যান
- নির্দিষ্ট একাউন্ট ওপেনিং ফরম নিন
- ফরমে সঠিক তথ্য দিন
- নমুনা স্বাক্ষর দিন (কমপক্ষে দুইটি)
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন
- ন্যূনতম টাকা জমা দিন
সাধারণত সেভিংস একাউন্টের জন্য ন্যূনতম ৫০০ টাকা এবং কারেন্ট একাউন্টের জন্য ১০০০ টাকা জমা রাখতে হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে ব্যাংক কর্মকর্তা যাচাই শেষে একাউন্ট অনুমোদন দেন। সাধারণত ১–২ কার্যদিবসের মধ্যেই একাউন্ট চালু হয়।
জনতা ব্যাংক একাউন্টের ধরন
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম জানার পাশাপাশি কোন ধরনের একাউন্ট আপনার জন্য উপযুক্ত তা জানা জরুরি।
- সেভিংস একাউন্টঃ সাধারণ সঞ্চয়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় একাউন্ট। স্বল্প লেনদেন এবং সুদের সুবিধা রয়েছে।
- কারেন্ট একাউন্টঃ ব্যবসায়ীদের জন্য উপযোগী। নিয়মিত বড় অংকের লেনদেন করা যায়।
- ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্টঃ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা রেখে বেশি সুদ পাওয়া যায়। মেয়াদ ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
- স্পেশাল স্কিম একাউন্টঃ মাসিক সঞ্চয়, পেনশন বা ডিপিএস স্কিমের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা যায়।
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাগজপত্র। সঠিক কাগজ না থাকলে একাউন্ট খোলা সম্ভব নয়।
ব্যক্তিগত একাউন্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ফটোকপি
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- ঠিকানা প্রমাণ (ইউটিলিটি বিল বা নাগরিক সনদ)
- নমিনির NID কপি ও ছবি
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ ও অভিভাবকের NID লাগবে।
ব্যবসায়িক একাউন্টের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র
- ট্রেড লাইসেন্স
- TIN সার্টিফিকেট
- কোম্পানির ক্ষেত্রে MOA/AOA
- বোর্ড রেজোলিউশন
সব কাগজপত্র সত্যায়িত হলে প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়।
জনতা ব্যাংক একাউন্ট ফরম ডাউনলোড
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম অনুযায়ী ফরম শাখা থেকে সংগ্রহ করা যায়। চাইলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও PDF ফরম ডাউনলোড করা যায়। প্রিন্ট করে আগেই পূরণ করলে শাখায় সময় কম লাগে।
জনতা ব্যাংক একাউন্ট চেক করার নিয়ম
একাউন্ট খোলার পর নিয়মিত ব্যালেন্স জানা জরুরি। জনতা ব্যাংক একাউন্ট চেক করার কয়েকটি সহজ উপায় আছে।
ব্যালেন্স চেক করার উপায়
| পদ্ধতি | সুবিধা |
|---|---|
| পাসবুক আপডেট | শাখায় গিয়ে |
| এটিএম বুথ | ২৪ ঘণ্টা |
| SMS অ্যালার্ট | প্রতিটি লেনদেন |
| JBL Mobile App | ঘরে বসে |
এসব সুবিধা ব্যবহার করে আপনি সহজেই আপনার একাউন্টের তথ্য জানতে পারবেন।
জনতা ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
কখনো প্রয়োজন হলে জনতা ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। নিজ শাখায় গিয়ে একাউন্ট ক্লোজিং ফরম নিতে হবে।
একাউন্ট বন্ধ করার ধাপ
- ক্লোজিং ফরম পূরণ
- NID কপি সংযুক্ত
- চেকবুক ও এটিএম কার্ড জমা
- অবশিষ্ট টাকা উত্তোলন
সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়।
প্রশ্ন ও উত্তর
জনতা ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত দিন লাগে?
সাধারণত ১–২ কার্যদিবস।
ন্যূনতম কত টাকা জমা দিতে হয়?
সেভিংস একাউন্টে ৫০০ টাকা।
অনলাইনে কি একাউন্ট খোলা যায়?
না, বর্তমানে শাখায় গিয়ে খুলতে হয়।
শেষ কথা
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম জানলে ব্যাংকিং শুরু করা খুব সহজ হয়ে যায়। সরকারি ব্যাংক হওয়ায় নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি। সঠিক কাগজপত্র ও নিয়ম মেনে চললে দ্রুত একাউন্ট খোলা সম্ভব। নতুন গ্রাহকদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।



