ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড ২০২৬ : সকল শাখার তালিকা ও ব্যবহারের নিয়ম
বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং, রেমিট্যান্স বা বিদেশের সাথে যেকোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য সঠিক ব্যাংকিং তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে চান বা গ্রহণ করতে চান, তাদের জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড জানা থাকা বাধ্যতামূলক। ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (DBBL) বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আধুনিক বাণিজ্যিক ব্যাংক। তাদের উন্নত সেবার কারণে অনেকেই আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য এই ব্যাংকটি বেছে নেন। আজকের এই ব্লগে আমরা ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব এবং আপনার প্রয়োজনীয় সকল শাখার তালিকা প্রদান করব।
ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড কী এবং কেন প্রয়োজন?
সুইফট কোড (SWIFT Code) হলো একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ব্যাংককে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। একে অনেক সময় BIC (Bank Identifier Code) ও বলা হয়। যখন আপনি বিদেশ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকে টাকা পাঠাতে যাবেন, তখন ওই দেশের ব্যাংক জানতে চাইবে আপনার ব্যাংকটি ঠিক কোনটি। তখনই ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড প্রয়োজন হয়।
আরও জেনে নিনঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক শাখা সমূহ
ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড মূলত ৮ থেকে ১১ অক্ষরের হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের নাম, দেশ, শহর এবং নির্দিষ্ট শাখা শনাক্ত করা যায়। সঠিক কোড ব্যবহার না করলে আপনার অর্থ লেনদেনে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হতে পারে বা ভুল একাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড এর গঠন
ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রধান সুইফট কোড হলো DBBLBDDH। আসুন দেখে নিই এই কোডটি আসলে কী বোঝায়:
- DBBL: এটি ব্যাংকের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ (Dutch-Bangla Bank Limited)।
- BD: এটি দেশের কোড (Bangladesh)।
- DH: এটি শহরের কোড (Dhaka)।
- XXX: এটি নির্দিষ্ট শাখা কোড (ব্রাঞ্চ কোড)। যদি কোনো শাখার আলাদা কোড না থাকে, তবে শেষে XXX যোগ করে লেনদেন করা হয়।
ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড তালিকা (প্রধান ও বিশেষ শাখা)
ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রতিটি শাখার জন্য আলাদা আলাদা কোড থাকতে পারে। তবে প্রধান কার্যালয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোডটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে। নিচে প্রধান কিছু শাখার ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক নং | শাখার নাম (Branch Name) | সুইফট কোড (SWIFT Code) |
| ১ | মতিঝিল (প্রধান কার্যালয়) | DBBLBDDHXXX |
| ২ | আগ্রাবাদ (চট্টগ্রাম) | DBBLBDDH102 |
| ৩ | গুলশান (ঢাকা) | DBBLBDDH116 |
| ৪ | বনানী (ঢাকা) | DBBLBDDH103 |
| ৫ | ধানমন্ডি (ঢাকা) | DBBLBDDH110 |
| ৬ | উত্তরা (ঢাকা) | DBBLBDDH117 |
| ৭ | লোকাল অফিস (ঢাকা) | DBBLBDDH101 |
| ৮ | কাওরান বাজার (ঢাকা) | DBBLBDDH107 |
| ৯ | সিলেট শাখা | DBBLBDDH117 |
| ১০ | রাজশাহী শাখা | DBBLBDDH129 |
জেলা ভিত্তিক ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড এর বিস্তারিত তালিকা
নিচের ছকটি থেকে আপনি বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড এক নজরে দেখে নিতে পারবেন। আন্তর্জাতিক লেনদেনের সময় অবশ্যই আপনার নির্দিষ্ট শাখার কোডটি মিলিয়ে নেবেন।
ঢাকা বিভাগের শাখা সমূহ
ঢাকা বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা অনেক বেশি। ঢাকার প্রধান কিছু ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড হলো:
- Banani Branch: DBBLBDDH103
- Dhanmondi Branch: DBBLBDDH110
- Gulshan Branch: DBBLBDDH116
- Uttara Branch: DBBLBDDH117
- Nababpur Branch: DBBLBDDH104
- Islampur Branch: DBBLBDDH118
- Dhaka EPZ Branch: DBBLBDDH122
চট্টগ্রাম বিভাগের শাখা সমূহ
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে ডাচ বাংলা ব্যাংকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের লেনদেনের জন্য নিচের কোডগুলো ব্যবহৃত হয়:
- Agrabad Branch: DBBLBDDH102
- Khatungonj Branch: DBBLBDDH155
অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহর
বাংলাদেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও ডাচ বাংলা ব্যাংকের সুইফট কোড কার্যকর রয়েছে:
- Narayanganj Branch: DBBLBDDH106
- Baburhat Branch (Narsingdi): DBBLBDDH109
- Khulna Branch: DBBLBDDH106
- Barisal Branch: DBBLBDDH157
- Rangpur Branch: DBBLBDDH133
সঠিক সুইফট কোড ব্যবহারের গুরুত্ব
আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। কেন সঠিক ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড ব্যবহার করবেন তা নিচে আলোচনা করা হলো:
- নিরাপদ লেনদেন: এটি নিশ্চিত করে যে আপনার টাকা সঠিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করছে।
- দ্রুত সেবা: সঠিক কোড প্রদান করলে ব্যাংক খুব দ্রুত আপনার লেনদেন প্রসেস করতে পারে।
- ভুল এড়ানো: শাখা ভিত্তিক সুইফট কোড ব্যবহার করলে টাকা সরাসরি আপনার এলাকার শাখায় পৌঁছাতে সাহায্য করে।
- স্বল্প খরচ: ভুল কোডের কারণে লেনদেন বাতিল হলে অনেক সময় ব্যাংক চার্জ কেটে নেয়, যা সঠিক কোড ব্যবহারে এড়ানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য টিপস
আপনি যদি বিদেশ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকে টাকা পাঠাতে চান, তবে কেবল ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড থাকলেই হবে না, নিচের তথ্যগুলোও সংগ্রহে রাখুন:
- অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের পুরো নাম (ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেভাবে আছে)।
- সঠিক অ্যাকাউন্ট নম্বর (Account Number)।
- ব্যাংকের শাখার নাম এবং ঠিকানা।
- সুইফট কোড (SWIFT Code)।
আপনার নির্দিষ্ট শাখার সঠিক কোড সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে ব্যাংকের হেল্পলাইন (+8809666716216) নম্বরে কল করতে পারেন অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।
আরও জেনে নিনঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক হেল্পলাইন নাম্বার ও কাস্টমার কেয়ার সেবা
প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
ডাচ বাংলা ব্যাংকের মেইন সুইফট কোড কোনটি?
ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রধান সুইফট কোড হলো DBBLBDDH।
সকল শাখার জন্য কি একই কোড ব্যবহার করা যায়?
সাধারণত প্রধান কোড (DBBLBDDH) ব্যবহার করলে টাকা প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে আপনার শাখায় পাঠানো হয়। তবে দ্রুত লেনদেনের জন্য নির্দিষ্ট শাখার কোড ব্যবহার করা উত্তম।
সুইফট কোড এবং রাউটিং নাম্বারের মধ্যে পার্থক্য কী?
সুইফট কোড ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য, আর রাউটিং নাম্বার ব্যবহার করা হয় দেশের অভ্যন্তরে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর জন্য।
আমি কি ভুল সুইফট কোড দিলে টাকা ফেরত পাব?
ভুল কোড দিলে লেনদেন সফল হবে না। সাধারণত টাকা যে ব্যাংক থেকে পাঠানো হয়েছে সেখানে ফেরত চলে যায়, তবে এতে সময় এবং কিছু চার্জ কাটতে পারে।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করছে। আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হোন বা প্রবাসী, সঠিক ডাচ বাংলা ব্যাংক সুইফট কোড জানা আপনার লেনদেনকে সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করবে। উপরে দেওয়া তালিকা থেকে আপনার প্রয়োজনীয় শাখার কোডটি সংগ্রহ করুন এবং নিরাপদে লেনদেন সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং তথ্যের ক্ষেত্রে সবসময় আপ-টু-ডেট থাকা ভালো।



