ব্যাংক

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয়? জানুন

আপনি কি বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন অথবা বিদেশ থেকে ফিরে এসে দেশেই বড় কোনো ব্যবসা শুরু করতে চান? প্রবাসীদের এই স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম হলো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। অনেকেই জানতে চান প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয় এবং এই লোন পাওয়ার প্রক্রিয়া কী। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সরকারি এই ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণের সীমা, সুদের হার এবং আবেদনের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের ধরন ও ঋণের সীমা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক মূলত তিন ধরনের লোন প্রদান করে থাকে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি এখান থেকে ৩ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন। নিচে এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. অভিবাসন ঋণ (বিদেশ যাওয়ার জন্য লোন)

যারা বৈধভাবে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চান কিন্তু প্রয়োজনীয় টাকার অভাব রয়েছে, তাদের জন্য এই লোন দেওয়া হয়। সাধারণত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয় বিদেশ যাওয়ার জন্য? এক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ঋণের মেয়াদ সাধারণত ৩ বছর হয়ে থাকে।

২. পুনর্বাসন ঋণ (ব্যবসা শুরু করার জন্য লোন)

বিদেশ থেকে ফিরে এসে যারা দেশে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবসা বা কৃষি কাজ শুরু করতে চান, তারা পুনর্বাসন ঋণ নিতে পারেন। এই ক্যাটাগরিতে ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। একজন ব্যক্তি বা গ্রুপ প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারেন। এই ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

৩. বিশেষ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন ঋণ

কারিগরি শিক্ষা বা বিশেষ কোনো দক্ষতা অর্জনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণের সীমা সাধারণত ১ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রশিক্ষিত হয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে যাওয়ার পথ সুগম করাই এই ঋণের মূল উদ্দেশ্য।

জামানতবিহীন লোন পাওয়ার সুবিধা

অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে যে গ্যারান্টি বা জামানত ছাড়া কি লোন পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন লোন (Collateral Free Loan) প্রদান করে থাকে। তবে ৩ লক্ষ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বা অন্য কোনো গ্যারান্টি প্রদান করতে হয়।

লোনের সুদের হার এবং কিস্তি পরিশোধের নিয়ম

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুদের হার অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। সাধারণত অভিবাসন ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ৯% (সরল সুদ) হয়ে থাকে। তবে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সুদের হার অনেক কম হতে পারে। ঋণের কিস্তি সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হয়। তবে পুনর্বাসন ঋণের ক্ষেত্রে ব্যবসাভেদে কিস্তি পরিশোধের জন্য গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় পাওয়া যেতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পাওয়ার যোগ্যতা

এই ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • বিদেশে যাওয়ার জন্য বৈধ পাসপোর্ট এবং ভিসা থাকতে হবে।
  • BMET এর স্মার্ট কার্ড বা ছাড়পত্র থাকতে হবে।
  • যিনি লোন নেবেন তার এবং তার গ্যারান্টারের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
  • পুনর্বাসন ঋণের ক্ষেত্রে সঠিক বিজনেস প্ল্যান বা ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।

আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সঠিক সময়ে লোন পেতে হলে আপনার কাছে নিচের কাগজগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে: ১. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ২. এনআইডি কার্ডের ফটোকপি। ৩. বিএমইটি (BMET) কর্তৃক প্রদত্ত স্মার্ট কার্ডের কপি। ৪. ভিসার কপি এবং কাজের চুক্তিনামা। ৫. গ্যারান্টারের ছবি ও পরিচয়পত্র। ৬. জামানতযুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে জমির দলিল বা প্রয়োজনীয় কাগজ।

কিভাবে আবেদন করবেন?

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোন প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ। আপনি আপনার নিকটস্থ জেলা শাখায় গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আপনাকে একটি আবেদন ফরম দেবেন। ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার তথ্য যাচাই করবে। সব কিছু ঠিক থাকলে খুব দ্রুতই লোন মঞ্জুর করা হয়।

FAQ: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয়?

পুনর্বাসন বা বড় প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়।

লোন পেতে কতদিন সময় লাগে?

সাধারণত সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ১০ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বিদেশ থেকে ফিরে এসে কি লোন পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, যারা বৈধভাবে বিদেশে ছিলেন এবং ফিরে এসে ব্যবসা করতে চান, তারা ‘পুনর্বাসন ঋণ’ ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন।

নারীদের জন্য কি কোনো বিশেষ সুবিধা আছে?

নারী কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার জন্য বিশেষ ছাড়ে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোন দেওয়া হয়।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকা লোন দেয় তা নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে লোন নিচ্ছেন তার ওপর। আপনি যদি বিদেশ যেতে চান তবে ৩ লক্ষ টাকা এবং দেশে বড় কোনো প্রজেক্ট করতে চাইলে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য এই ব্যাংকটি প্রবাসীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। সঠিক কাগজপত্র এবং পরিকল্পনা থাকলে আপনিও এই সুযোগ গ্রহণ করে নিজের ভাগ্য বদলাতে পারেন।

লোন সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করুন অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button