সিটি ব্যাংক

সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার সহজ উপায় ২০২৬

বর্তমানে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঝটপট টাকার চাহিদা মেটাতে ব্যাংক লোন একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংক (City Bank) তাদের উন্নত সেবা এবং বৈচিত্র্যময় লোন সুবিধার জন্য গ্রাহকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। আপনি যদি বাড়ি কেনা, গাড়ি কেনা, কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পার্সোনাল লোন নিতে চান, তবে সিটি ব্যাংক আপনার জন্য সেরা সমাধান হতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা সিটি ব্যাংক লোন সম্পর্কে এ টু জেড আলোচনা করব, যাতে আপনি ঘরে বসেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সিটি ব্যাংক লোনের ধরন এবং সুযোগ-সুবিধা

সিটি ব্যাংক গ্রাহকদের আর্থিক অবস্থা এবং প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ঋণ প্রদান করে থাকে। প্রতিটি লোনের শর্ত এবং সুদের হার ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে প্রধান কয়েকটি ক্যাটাগরি দেওয়া হলো:

  1. পার্সোনাল লোন (Personal Loan)
  2. অটো লোন বা গাড়ি লোন (Auto Loan)
  3. এফডি বা ডিপিএস এর বিপরীতে লোন (Quick Loan)
  4. ডিজিটাল লোন (Digital Nano Loan via bkash)

আরও জানতে পারেনঃ সিটি ব্যাংক অনলাইন লোন

সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন (Personal Loan)

যেকোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন যেমন—চিকিৎসা, বিয়ে, শিক্ষা বা ভ্রমণের জন্য সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন প্রদান করে থাকে। এটি একটি আনসিকিউরড লোন, অর্থাৎ এর জন্য কোনো জামানত দিতে হয় না।

লোনের পরিমাণ ও মেয়াদ

  • অ্যামাউন্ট: সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া সম্ভব।
  • মেয়াদ: ১২ মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০ মাস বা ৫ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধ করা যায়।

আবেদনের যোগ্যতা

  • চাকরিজীবী: মাসিক বেতন নূন্যতম ১৫,০০০ – ২৫,০০০ টাকা হতে হবে (প্রতিষ্ঠানের ধরন ভেদে)।
  • ব্যবসায়ী: ব্যবসার বয়স কমপক্ষে ২-৩ বছর হতে হবে।
  • পেশাজীবী: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্টদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

সিটি ব্যাংক অটো লোন (Auto Loan)

নিজের একটি শখের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে সিটি ব্যাংক চমৎকার অটো লোন অফার করে। নতুন বা রিকন্ডিশন্ড উভয় ধরনের গাড়ির জন্যই এই লোন প্রযোজ্য।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • অ্যামাউন্ট: ৪ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  • ফাইনান্সিং: গাড়ির বাজার মূল্যের ৭০% পর্যন্ত ব্যাংক লোন দিয়ে থাকে, বাকি ৩০% টাকা গ্রাহককে দিতে হয়।
  • মেয়াদ: ১২ থেকে ৭২ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে কিস্তি পরিশোধের সুবিধা।

বিশেষ সুবিধা

সিটি ব্যাংক অটো লোনের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রসেসিং এবং প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারের নিশ্চয়তা দেয়। এছাড়া নারী গাড়ি চালকদের জন্য বিশেষ স্কিমও থাকতে পারে।

এফডি (FD) বা ডিপিএস (DPS) এর বিপরীতে কুইক লোন

আপনার যদি সিটি ব্যাংকে কোনো সঞ্চয় বা ডিপিএস থাকে, তবে সেটি না ভেঙেই আপনি জরুরি প্রয়োজনে লোন নিতে পারেন। একে সিকিউরড লোন বা কুইক লোন বলা হয়।

লোনের শর্তাবলী

  • আবেদন প্রক্রিয়া: সিটিটাচ (Citytouch) অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে আবেদন করা যায়।
  • অ্যামাউন্ট: আপনার ডিপিএস বা এফডিতে জমা থাকা টাকার ৯০% থেকে ৯৫% পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়।
  • ন্যূনতম ব্যালেন্স: সর্বনিম্ন ৩০,০০০ টাকা জমা থাকলে এই লোনের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
  • সময়: অনলাইনে বা অ্যাপে আবেদন করলে সাধারণত একই দিনে বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

বিকাশ ডিজিটাল লোন (Digital Loan via bkash)

ক্ষুদ্র ঋণের চাহিদা মেটাতে সিটি ব্যাংক এবং বিকাশ যৌথভাবে ‘ডিজিটাল লোন’ চালু করেছে। এটি মূলত একটি ন্যানো লোন যা কোনো কাগজপত্র ছাড়াই পাওয়া যায়।

বিস্তারিত তথ্য

বিষয়বিবরণ
লোনের পরিমাণ৫০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত
মেয়াদ৩ মাস (পরিশোধের সময়)
সুদের হারবার্ষিক ১৬-১৮% (বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী)
যোগ্যতাবিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারী এবং লেনদেনের ধরন

এটি সম্পূর্ণ জামানতবিহীন লোন। আপনার বিকাশ লেনদেনের ইতিহাস ভালো হলে আপনি অ্যাপের লোন অপশন থেকে তাৎক্ষণিক টাকা নিতে পারেন।

লোন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সিটি ব্যাংক লোন পেতে হলে আপনাকে কিছু সাধারণ এবং কিছু পেশাভিত্তিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলো:

সাধারণ কাগজপত্র (সবার জন্য প্রযোজ্য)

  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ল্যাব প্রিন্ট ছবি।
  • এনআইডি (NID) বা স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি।
  • ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি)।
  • ই-টিন (E-TIN) সার্টিফিকেটের কপি।
  • বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র।

পেশা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র

  • চাকরিজীবী: স্যালারি সার্টিফিকেট বা পে-স্লিপ এবং গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, পার্টনারশিপ ডিড (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং গত ১ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • বাড়িওয়ালা: ভাড়ার চুক্তিনামা এবং মালিকানার প্রমাণপত্র।

সিটি ব্যাংক লোনের সুদের হার ও অন্যান্য চার্জ

লোনের ধরন অনুযায়ী সুদের হার পরিবর্তিত হয়। সাধারণত পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার কিছুটা বেশি হয়, অন্যদিকে অটো লোন বা সিকিউরড লোনে সুদের হার কিছুটা কম থাকে।

  • প্রসেসিং ফি: লোন অ্যামাউন্টের ০.৫০% থেকে ১% পর্যন্ত হতে পারে।
  • আর্লি সেটেলমেন্ট ফি: মেয়াদের আগে লোন শোধ করতে চাইলে নির্দিষ্ট হারে চার্জ দিতে হতে পারে।

কিভাবে সিটি ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করবেন?

আপনি প্রধানত তিনটি উপায়ে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন:

  1. সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে: আপনার নিকটস্থ সিটি ব্যাংক শাখায় গিয়ে লোন অফিসারের সাথে কথা বলুন।
  2. ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে লোন ফর্ম পূরণ করুন।
  3. Citytouch অ্যাপ: আপনার যদি আগে থেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে পার্সোনাল বা কুইক লোনের আবেদন করতে পারবেন।

প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)

সিটি ব্যাংক থেকে কত দিনে লোন পাওয়া যায়?

পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবস সময় লাগে। তবে এফডি বা ডিপিএস লোন ১ দিনেই পাওয়া সম্ভব।

লোনের টাকা দিয়ে কি ব্যবসা করা যাবে?

হ্যাঁ, আপনি পার্সোনাল লোন বা এসএসই (SME) লোন নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে ব্যবসার জন্য আলাদা বিজনেস লোন স্কিম চেক করা ভালো।

ক্রেডিট কার্ড থাকলে কি লোন পাওয়া সহজ হয়?

হ্যাঁ, আপনার যদি সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থাকে এবং পেমেন্ট রেকর্ড ভালো থাকে, তবে ব্যাংক আপনাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোন দেবে।

লোন পরিশোধের পদ্ধতি কী?

আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে অটোমেটিক কিস্তি (EMI) কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া আপনি চাইলে অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে কিস্তি কমাতে পারেন।

শেষ কথা

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য জরুরি। সিটি ব্যাংক লোন আপনার জীবনের ছোট-বড় প্রয়োজন মেটাতে দারুণ সহায়ক হতে পারে। তবে লোন নেওয়ার আগে অবশ্যই সুদের হার, মাসিক কিস্তি এবং নিজের পরিশোধ করার ক্ষমতা যাচাই করে নেবেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে সব শর্ত বুঝে নিলে পরবর্তীতে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। সিটি ব্যাংক তাদের সহজ প্রসেসিং এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেবাকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button